গায়ের জোরে বজবজ পুরসভা দখল করেছে তৃণমূল : বামফ্রন্ট - আজ খবর । দেখছি যা লিখছি তাই । ডিজিটাল মিডিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম

Sonar Tori


গায়ের জোরে বজবজ পুরসভা দখল করেছে তৃণমূল : বামফ্রন্ট

Share This


গায়ের জোরে বজবজ পুরসভা দখল করেছে তৃণমূল : বামফ্রন্ট
শমীক লাহিড়ী 

আজ খবর (বাংলা), কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৯/০২/২০২২ : রাজ্যের ১০৮ টি পৌরসভার নির্বাচন আদালতের হস্তক্ষেপে আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারী হবে। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৯ই ফেব্রুয়ারী। 

বজবজ পৌরসভার নির্বাচনে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সশস্ত্র তৃণমূল বাহিনী হুমকি দেওয়া শুরু করে ৫ই ফেব্রুয়ারী বিকেল  থেকেই। স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকদের জানানো হলেও কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং ১০০র বেশি বাইক নিয়ে এই সশস্ত্র দুস্কৃতি বাহিনী  সেখ লুৎফর হোসেন, অভিষেক সাউ, হীরা রাম ইত্যাদি  তৃণমূল নেতার নেতৃত্বে কার্যত দখল নেয় সমগ্র বজবজ শহরের।  

৬ ও ৭ই ফেব্রুয়ারী শহরের সিপিআই(এম) নেতা এবং প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে মনোনয়ন জমা না দেওয়ার জন্য হুমকি দেয়।

এইসব ঘটনা জানিয়ে ৬ ও ৭ই ফেব্রুয়ারী জেলা শাসককে সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলা সম্পাদক শমীক লাহিড়ী চিঠি দিয়ে দুস্কৃতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বামফ্রন্ট প্রার্থীদের উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থার দাবী জানান। জেলা শাসকের আশ্বাস সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয় নি। 

৮ই ফেব্রুয়ারী সিপিআই(এম) নেতা রবীন দেব এবং শমীক লাহিড়ী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ও কমিশন  সচিবের সাথে দেখা করে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য নিরাপত্তা ও সশস্ত্র বাইক বাহিনীর দৌরাত্ম বন্ধ করার দাবী জানান। তাঁরা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

কিন্তু ৮ই ফেব্রুয়ারী মাঝ রাত থেকেই আবার সশস্ত্র বাইক বাহিনী বামফ্রন্ট প্রার্থী ও নেতৃত্বের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। জেলা শাসক এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে সব জানানোর পরেও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এই অবস্থায় কোনও ভাবে ৮ জন বামফ্রন্ট প্রার্থী দুস্কৃতি বাহিনীর দৃষ্টি এড়িয়ে বহু ঘুরপথে আলিপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছায়। সেখানেও তাঁদের হুমকি দেওয়া হয় মনোনয়ন জমা না দেওয়ার জন্য। তাঁদের হুমকি উপেক্ষা করেই ৮জন বামফ্রন্ট প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু ১২ জন প্রার্থীর বাড়ি ঘিরে রাখায় তাঁরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য বাড়ির বাইরে বেরোতেই পারেন নি। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর সাংসদ এলাকায় ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ৭২টি গ্রাম পঞ্চায়েত মোট আসন ১০৮১, পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন ২০৮, জেলা পরিষদের মোট ২০টি আসনের সব কটিই দখল করে তৃণমূল গায়ের জোরে। এই ৭২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৬৮টি তে কোনও টিএমসি বিরোধী প্রার্থী ছিল না। বিনা  প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিএমসি জিতেছিল ১০০৬টি গ্রামসভা, ১৯৭টি সমিতি  এবং ২০টি জিলা পরিষদের আসন। গণতন্ত্র ধর্ষিত হয়েছিল তৃণমূলের  সশস্ত্র দুস্কৃতিদের হাতে। তারই পুনরাবৃত্তি করতে চেয়েছে তৃণমূল দুস্কৃতি বাহিনী ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত বজবজ পৌরসভায়।

CPI(M) দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সম্পাদক শমীক লাহিড়ী বজবজ পৌরসভার নির্বাচনকে প্রহসনে রূপান্তরিত করার তীব্র বিরোধিতা করেন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে বজবজ পৌরসভার নির্বাচনে বামফ্রন্ট সব প্রার্থীদের উপযুক্ত নিরাপত্তা সহ পুনরায় মনোনয়ন জমা ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন। 

রিপোর্ট : সুব্রত রায় 



Loading...

Amazon

https://www.amazon.in/Redmi-8A-Dual-Blue-Storage/dp/B07WPVLKPW/ref=sr_1_1?crid=23HR3ULVWSF0N&dchild=1&keywords=mobile+under+10000&qid=1597050765&sprefix=mobile%2Caps%2C895&sr=8-1

Pages