করোনা কবে যাবে জানিনা, 'তৃণমূল ভাইরাস' যাবে মে মাসে : দিলীপ ঘোষ - আজ খবর । দেখছি যা লিখছি তাই । ডিজিটাল মিডিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম

Sonar Tori


করোনা কবে যাবে জানিনা, 'তৃণমূল ভাইরাস' যাবে মে মাসে : দিলীপ ঘোষ

Share This

করোনা কবে যাবে  জানিনা, 'তৃণমূল ভাইরাস' যাবে মে মাসে : দিলীপ ঘোষ


আজ খবর (বাংলা), নন্দীগ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ০৮/০১/২০২১ :  নন্দীগ্রামে আজ শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে মেগা জনসভা করল বিজেপি। সেই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বোচ্য নেতৃত্ব। এই জনসভায় আজ লক্ষাধীক মানুষের জনপ্লাবন তৈরি হয়েছিল। 

নন্দীগ্রাম স্টেট্ ব্যাঙ্ক  সংলগ্ন ময়দানের এই জনসভায় আজ সহস্রাধীক মানুষ বিজেপিতে যোগদান করলেন। এই জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলকে আক্রমন করলেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। মুকলবাবু  বলেন, "নন্দীগ্রামের আন্দোলনে যে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছিল, যে শহীদ পরিবারগুলির সাথে সব সময়  যোগাযোগ রেখে চলেছে, তার নাম শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের আগে সিঙ্গুর আন্দোলনও আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, আমি অনেক ঘটনার সাক্ষী। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, সিঙ্গুর থেকে টাটাকে সরিয়ে দিয়ে ভাল কাজ হয় নি। তারপর থেকে রাজ্যে কোনো শিল্প আসে নি। বিধানসভা ভোটে যদি আমরা জিতে যাই, তাহলে মোদীজিকে অনুরোধ করব যাতে তিনি সিঙ্গুরে টাটাকে .ফিরিয়ে আনেন। এর আগে রাজ্যে পরিবর্তন হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  যে সব প্রতিশ্রুতি মানুষকে দিয়েছহিলেন সেগুলোর একটাও পূরণ করেন নি। আমি আমার জীবনে এতবড় মিথ্যাবাদী  মুখ্যমন্ত্রী দেখিনি। এবারে আমরা পরিবর্তনের পরিবর্তন দেখব।"

এরপর জনসভার মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, " আমি বাংলায় অনেক জনসভা দেখেছি, কিন্তু এই সভা একটু অন্যরকম। এটা পরিবর্তনের সভা.। নন্দীগ্রামে আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনডিএ সরকারের সবরকম সহযোগিতা  নিয়েছিলেন। সেই সময় আডবানিজি এবং রাজনাথ সিং তাঁকে সবরকম সাহায্য করেছিলেন। তিনি তারপর এনডিএ ছেড়ে চলে গেলেন, .বিশ্বাসঘাতকতা তাহলে করল কে ? শুভেন্দু এবং মুকুল রায় এই দুই চানক্য মমতাকে নেত্রী বানিয়েছেন, তাঁরা তাহলে দল ছাড়লে বিশ্বাসঘাতক বলা হবে কেন ? নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় যে পুলিশ অফিসাররা গুলি চালিয়ে ৪১ জনকে হত্যা করেছিল, সেই পুলিশ অফিসারদের জেলে ঢোকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে কেন সেই পুলিশদেরকে নিজের দলের সদস্য পদ দিলেন তিনি ? কেন তাঁদেরকে পুরস্কৃত করলেন ? আসলে মমতাজী নন্দীগ্রামের সাথেও বিশ্বাসগতকতা করেছেন। "


কৈলাস বিজয়বর্গীয় আরও বলেন, "একজন কয়লা মাফিয়া দিলীপদাকে গুন্ডা বলেছে। দিলীপদা কি গুন্ডা ? এর জবাব ভোটে দিতে হবে। গরু মাফিয়া, কয়লা মাফিয়া কে, সেটা সবাই জানে। বিনয় মিশ্রের  সাথে ভাইপোর কি সম্পর্ক সেটা আমরা জানি, সেটা মানুষও জানে। মমতাজি বলেছিলেন সোনার বাংলা  গড়বেন, কিন্তু এখানে এত বেশি কয়লা মাফিয়া বেড়ে গিয়েছে, এটা 'কোলার বাংলা' হয়ে গিয়েছে। আজকের জনসভায় মানুষের ভীড় দেখেই বুঝতে পারছি, পশ্চিমবাংলায় পরিবর্তন হচ্ছেই। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আমরা পশ্চিবঙ্গকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে  তুলব।" 

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, "২০২০ সাল শেষ হয়েছে সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে,  ২০২১ সাল শুরু হয়েছে অনেক প্রত্যাশার মধ্যে দিয়ে। করোনা ভাইরাস কবে যাবে তা আমি জানি না। তবে তার চেয়েও সাঙ্ঘাতিক ভাইরাস তৃণমূল কবে যাবে তা আমরা জানি, কারন তৃণমূল ভাইরাসের প্রতিষেধক আমরা আবিস্কার  ফেলেছি।  মে মাসের ২০ তারিখের পর এই ভাইরাস আর থাকবে না। নবান্নে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বসবেন।"

দিলীপ ঘোষ বলেন, "যে সব কর্মীরা একসময় ঘাম ঝরিয়ে , রক্ত ঝরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দলটা তৈরি করেছিলেন , তাঁরাই দেখা যাচ্ছে ওই পার্টিতে অবহেলিত হয়ে রয়েছেন। কোনো সন্মান নেই তাঁদের। তাঁরা যদি দল ছেড়ে আমাদের দলে যোগ দেন, এবং আমরা যদি তাঁদের সন্মান দিই, তাতে আমাদের দোষ কোথায় ? ভারতীয় জনতা পার্টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। এই দলের সদস্য সংখ্যা এত বেশি যে অত সংখ্যক মানুষ অনেক দেশে বসবাসই করেন না। অন্য দল থেকে আমাদের দলে আসা প্রত্যেককে আমরা যথাযোগ্য সন্মান দিই।"


দিলীপবাবু আরও বলেন, "আমরা ফের এই রাজ্যে পরিবর্তন করব। কিন্তু এই পরিবর্তন করতে গিয়ে আমাদের দলের ১৩৩ জন শহীদ হয়েছেন। তাঁদের বলিদানের বদলে তৈরি হবে নতুন বাংলা। আমাদের দলের সদস্যদের ওপর ২৯ হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। আমার ওপরেও ৩০টির বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে। আজও এখানে আসার আগে তমলুক আদালতে  .হাজিরা দিয়ে .এসেছি। টিএমসি এমন একটা পার্টি,  যেখানে কোনো  শৃঙ্খলা নেই, সন্মান নেই. তাই সবাই চলে আসছেন আমাদের দলে। রাজ্যের মানুষ কেন্দ্রের সব প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এটা চলতে দেওয়া যায় না। বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ুন।"

আজ নন্দীগ্রামে জনসভা চলার সময় কিছুটা বিশৃঙ্খলা হতে দেখা যায়। যে মঞ্চে বিজেপিতে যোগদানের জন্যে প্রচুর মানুষ দাঁড়িয়েছিলেন সেই মঞ্চের কোনা থেকে হঠাৎ হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেকেই উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন। কৈলাস বিজয়বর্গীয়র  ভাষণ চলার সময় হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যেতে দেখা যায়। এরপর মূল মঞ্চ থেকে নেমে দ্রুত গন্ডগোলের জায়গায় পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী নিজে। মঞ্চ থেকে তখন বিজেপি নেতারা সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছেন। তবে পুরো ব্যাপারটা নিমেষে নিয়ন্ত্রণ করেন শুভেন্দু অধিকারী।

এরপর বক্তব্য রাখতে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু বিশৃঙ্খলা যাতে আরও বেড়ে না যায়, তাই তিনি আজ খুব সংক্ষিপ্ত ভাষন দিলেন। তিনি বলেন, " সিপিএমও কখনো অন্যের জনসভায় ঢুকে ঢিল ছোঁড়ে নি। আজ আমাদের জনসভায় যারা এই কাজ করল তারা ঠিক করে নি। এত উস্কানি আমি কখনো দেখিনি। এটা পরিবর্তনের সভা। উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বলেছিলেন ৭ তারিখে নন্দীগ্রামে সভা করবেন, আমি তার উত্তর দেওয়ার জন্যেই আজ এখানে সভা করব বলেছিলাম। কিন্তু উনি আর সভা করলেন না। আমরা করলাম। উনি বলেছেন নন্দীগ্রামে উনি আগামী ১৮ তারিখে সভা করবেন। আমি এখান থেকেই বলে দিচ্ছি, আগামী ১৯ তারিখে আমি নন্দীগ্রামের খেজুরিতে জনসভা করব। সেদিন সবকিছুর উত্তর দেব। আমি এখানে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকব, যতক্ষন না এখানে  উপস্থিত সব মানুষ নন্দীগ্রামে এবং খেজুরিতে নিজের বাড়ি ফিরে যায়।" এরপরেই শুভেন্দু অধিকারী সভা সমাপ্ত বলে ঘোষণা করেন।

Loading...

Amazon

https://www.amazon.in/Redmi-8A-Dual-Blue-Storage/dp/B07WPVLKPW/ref=sr_1_1?crid=23HR3ULVWSF0N&dchild=1&keywords=mobile+under+10000&qid=1597050765&sprefix=mobile%2Caps%2C895&sr=8-1

Pages