পাকিস্তানই পাঠিয়েছিল জঙ্গীদের, তথ্য প্রকাশ্যে - আজ খবর । দেখছি যা লিখছি তাই । ডিজিটাল মিডিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম

Sonar Tori


পাকিস্তানই পাঠিয়েছিল জঙ্গীদের, তথ্য প্রকাশ্যে

Share This

পাকিস্তানই পাঠিয়েছিল জঙ্গীদের, তথ্য প্রকাশ্যে


আজ খবর (বাংলা), জম্মু ও কাশ্মীর, ভারত, ২১/১১/২০২০ : কাশ্মীরে বড় নাশকতার ছক যে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী ভেস্তে দিয়েছে তা আজ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ্য এসে গেল। জানা গেল, যে চার জঙ্গীকে নাগরোটার এনকাউন্টারে মারা হয়েছিল, সেই জঙ্গীদেরকে ভারতে বড়সড় নাশকতা করতে পাঠিয়েছিল পাকিস্তানের কুখ্যাত জঙ্গী মাসুদ আজহারের ভাই আবদুল  রউফ  আসগর। 

সরকারের এক উচ্চপদাধিকারী আজ জানিয়েছেন, "পুলওয়ামায় যে জঙ্গী নাশকতার ঘটনা ঘটেছিল, তার চেয়েও বড় আকারের নাশকতা ঘটাতেই চার জঙ্গীকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল।  জঙ্গীকে ভারতে নাশকতা করার জন্যে পাঠিয়েছিল জৈশ ই মহম্মদের প্রধান কুখ্যাত পাক জঙ্গী মৌলানা মাসুদ আজাহারের ভাই  আবদুল  রউফ আসগর। এই আবদুল  রউফ আসগরই পাকিস্তানের সাকরগর লঞ্চ প্যাড থেকে  চার জঙ্গীকে নির্বাচিত করে ভারতে এসে বড়সড় নাশকতা ঘটানোর দায়িত্ব দিয়েছিল। এর জন্যে এদেরকে আত্মঘাতী  টেনিংও দেওয়া হয়েছিল।


মৌলানা মাসুদ আজহারের ভাই আসগর এই নাশকতার  জন্যে নিয়োগ করেছিল কাজী তারার নামে আরও এক জঙ্গীকে বলে জানতে পারা গিয়েছে।  গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে জৈশ ই মহম্মদের প্রধান কার্যালয়ে  এই ব্যাপারে একটি বিশেষ বৈঠক হয়েছিল।  যেখানে উপস্থিত ছিল মৌলানা মাসুদ আজাহার নিজে, এছাড়াও ছিল আবু জুন্দল ও মুফতি তৌসিফ নামে দুই আইএসআই আধিকারিক। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই যে সক্রিয়ভাবে পাক জঙ্গীদের মদত দিয়ে আসছে, তা এর আগেও বহুবার প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। 

প্রাথমিক পরিকল্পনা সাখরগড়ে করে নেওয়ার পর পাকিস্তানের জঙ্গী মাথারা চারজন জঙ্গীকে নির্বাচিত করে রেখেছিল। সেই চার পাক জঙ্গীকে আত্মঘাতী নাশকতা চালানোর ট্রেনিং দেওয়া ছাড়াও দেওয়া হয়েছিল প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। যাতে তারা কাশ্মীর উপত্যকায় এসে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। ভারতীয় পজিশনে সব থেকে বড় হামলা চালাতে পারে। ভারতে প্রবেশ করার জন্যে জঙ্গীরা ভারত পাক সীমান্তের সাম্বা সেক্টরে নদী সমৃদ্ধ নালা অঞ্চলের নেটওয়ার্ককে বেছে নিয়েছিল। ওই পথ দিয়েই তারা ভারতের মধ্যে প্রবেশ করেছিল মাঝরাত্রে। সাম্বা থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে জাটওয়াল নামে এই জায়গা থেকেই তাদেরকে ট্রাকে তোলা হয়েছিল। সূত্র জানিয়েছে, বেশিরভাগ সময় জঙ্গীরা এই রুট ব্যবহার করেই ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, আর তাদের প্রবেশ করার সময়টা হল রাত্রি ৩টে থেকে রাত্রি ৪টের মধ্যে। 


জাটওয়াল পিক আপ পয়েন্ট থেকে এরিয়াল দূরত্বে পাকিস্তানের সাকরগড় লঞ্চ প্যাডের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। মাঝরাতে জঙ্গীরা ট্রাকে তুলে নেয় তাদের সঙ্গে করে আনা অস্ত্রশস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী। ট্রাকের পিছনের দিকে রাখা হয় প্রচুর আপেলের বাক্স। সেই বাক্সের আড়ালে বসেই ট্রাকে চেপে জঙ্গীরা সাম্বার দিকে রওনা হয়েছিল নাশকতার পরিকল্পনা মাথায় রেখে। ট্রাকটি বন টোল প্লাজায় এসে দাঁড়ায় ভোর ৪:৪৫ মিনিট নাগাদ। রুটিন চেকিং করার জন্যে টোল প্লাজায় তখন ছিলেন বেশ কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা। তাঁরা ট্রাকটিকে থামান। 

ট্রাকটিকে থামিয়েই ট্রাকের ড্রাইভার ট্রাক থেকে লাফ দিয়ে নেমে নিমেষে অন্ধকারের মধ্যে গা ঢাকা দেয়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী দূর থেকেই ট্রাকটির দিকে এগোতে থাকে। ট্রাকের ভিতরে থাকা জঙ্গীরা ততক্ষণে ট্রাকের পিছনে গিয়ে লুকিয়েছে। তারা রীতিমত ভয়ে কাঁপছিল। তারা  বুঝতে পেরেছিল, পাকিস্তানের লঞ্চ প্যাডে ট্রেনিং নেওয়া এক ব্যাপার আর ভারতীয় সেনা জওয়ানের মুখোমুখি হওয়াটা আর এক ব্যাপার, এই দুইয়ের মধ্যে রয়েছে আকাশ পাতাল তফাৎ। 

এই সময় জওয়ানরা বার বার ওই জঙ্গীদের আত্মসমর্পনের জন্যে আবেদন জানাতে থাকেন। আত্মসমর্পনের জন্যে বেশ কিছুটা সময় দেওয়াও হয়েছিল। সেই সময় জঙ্গীরা হঠাৎ 'আল্লাহু আকবর', 'ইসলাম জিন্দাবাদ', 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' এবং 'জৈশ জিন্দাবাদ' বলে স্লোগান দিতে থাকে। তারা পরিস্কার জানিয়ে দেয়, তারা ভারতের মাটিতে মরতেই এসেছে। এরপর জঙ্গীরা গুলি চালাতে থাকে। শুরু হয়ে যায় এনকাউন্টার। পাক্কা তিন ঘণ্টা ধরে চলে এনকাউন্টার, ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় আরও বড় বাহিনী। চার জঙ্গীকে ঘটনাস্থলেই খতম করা হয়।  ট্রাক চালকের খোঁজে তল্লাশি চলছে। 

জঙ্গীদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ১১টি এ কে সিরিজের স্বয়ংক্রিয় বন্দুক, ২৩টি গুলির ম্যাগাজিন, ২৯টি গ্রেনেড, ১০টি আন্ডার ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, এবং ২টি পিস্তল। সবগুলোই পাকিস্তানে তৈরি। এছাড়াও ছিল ওয়াকিটকি, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম ও ক্যাসিও  ঘড়ি, যা চার জঙ্গীর জন্যেই একই সময়ে সেট করে রাখা ছিল। 

ভারতে প্রবেশ করার পরেও এই চার জঙ্গীদের সাথে মৌলানা মাসুদ আজাহারের ভাই আসগরের সাথে ওয়াকিটকিতে যোগাযোগ ছিল, সেইসঙ্গে কাশ্মীরে থাকা জঙ্গীদের কাউন্টারপার্ট মহম্মদ খান কাশ্মীরীর সাথেও যোগাযোগ ছিল।নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা দল এই বিষয়ে আরও তথ্য ও প্রমাণ জোগাড় করার কাজ করে চলেছেন। 

Loading...

Amazon

https://www.amazon.in/Redmi-8A-Dual-Blue-Storage/dp/B07WPVLKPW/ref=sr_1_1?crid=23HR3ULVWSF0N&dchild=1&keywords=mobile+under+10000&qid=1597050765&sprefix=mobile%2Caps%2C895&sr=8-1

Pages