জাতীয় শিক্ষানীতি ভারতে একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা মেটাবে : নরেন্দ্র মোদী - আজ খবর । দেখছি যা লিখছি তাই । ডিজিটাল মিডিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম

Sonar Tori


জাতীয় শিক্ষানীতি ভারতে একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা মেটাবে : নরেন্দ্র মোদী

Share This

জাতীয় শিক্ষানীতি ভারতে একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা মেটাবে : নরেন্দ্র মোদী


আজ খবর (বাংলা), নতুন দিল্লী, ভারত, ০৮/০৯/২০২০ :  জাতীয় শিক্ষানীতির ওপর একদিনের ভার্চুয়াল সম্মেলন আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক, বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপাল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উপরাজ্যপাল ও প্রশাসক, বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীরা এই সম্মেলনে যোগ দেন। এই শিক্ষানীতি শুধুমাত্র নথিই নয়, দেশের উচ্চাকাঙ্খাকে বাস্তবায়িত করার এক উদ্যোগ।

প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, এই নীতিকে একটি সরকারের নীতির মধ্যে আবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ‘বিদেশ নীতি বা প্রতিরক্ষা নীতির মতো শিক্ষা নীতিও যেকোন সরকারের উর্দ্ধে উঠে সারা দেশের’।

তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একই সুরে রাষ্ট্রপতিও এই নীতির প্রশংসা করেছেন। যেভাবে সমাজের সর্বস্তর থেকে মতামত নিয়ে এই নীতি তৈরি করা হয়েছে তিনি তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি তৈরিতে নেতৃত্বদানের ভূমিকার প্রশংসা করে শ্রী কোবিন্দ বলেছেন, এই নীতির মাধ্যমে দেশ জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশের চাহিদা পূরণে শিক্ষানীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।    

শ্রী মোদী বলেছেন, যদিও কেন্দ্র, রাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনের ওপর শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব বর্তায়, কিন্তু এই নীতি প্রণয়নে তাদের হস্তক্ষেপ কম হওয়া উচিত। তিনি বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতা এবং সার্বিক  হওয়ার ব্যাপারটি তখনই বৃদ্ধি পায় যখন বেশি সংখ্যায় শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক-অভিভাবিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা  এর সঙ্গে যুক্ত হন। দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্টজনেদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে নতুন শিক্ষানীতির খসড়া তৈরি করা হয় বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,  শিক্ষক, শিক্ষাবিদ সকলেই এই নীতির দাবিদার। 

মোদী বলেছেন, সর্বস্তরেই এই নীতির গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং পূর্বতন শিক্ষানীতির সংস্কারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই নীতি তৈরি হয়েছে। এই নীতির ওপর স্বাস্থ্যকর বিতর্কের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি শুধুমাত্র শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারকে নিশ্চিত করছে না, একবিংশ শতাব্দীর ভারতের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে এই নীতি নতুন দিশা দেখাবে। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার জন্য এই নীতি সহায়ক হবে।    

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবস্থায় যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য এই শিক্ষানীতি তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে জ্ঞান ও দক্ষতা দুটি ক্ষেত্রেই দেশের যুব সম্প্রদায়কে প্রস্তুত করতে এই নীতির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষানীতিতে শুধুমাত্র পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে জানার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এই জানার বিষয়টি পাঠ্যসূচির বাইরেও সামিল রয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারেন। শ্রী মোদী বলেছেন, পদ্ধতির পরিবর্তে আগ্রহ, ব্যবহারিকতা এবং সম্পাদনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মাধ্যমে কি পাওয়া গেল এবং শিক্ষক শিক্ষণের মত বিষয়গুলির ওপর এই শিক্ষানীতিতে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এর মাধ্যমে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর ক্ষমতায়ণ হবে।  

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীতে ভারতে শিক্ষা ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য নতুন এই শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছে। বিদেশে মেধা চলে যাওয়ার সমস্যার মোকাবিলা করার জন্য নতুন এই নীতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির এদেশে ক্যাম্পাস খোলার পথ প্রশস্ত করবে। 

নরেন্দ্র মোদী  বলেছেন, কিভাবে নতুন এই নীতি প্রয়োগ করা হবে এখন সেই বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। যেকোন রকমের বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট সকলের পরামর্শ খোলা মনে শোনা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই শিক্ষানীতি শুধুমাত্র সরকারের শিক্ষানীতি নয়, এটা দেশের শিক্ষানীতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় শিক্ষানীতির মাধ্যমে পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা হবে, যেখানে আঞ্চলিক এবং সামাজিক অসাম্য দূর করতে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় যথেষ্ট প্রভাব দেখা দেবে।

তিনি বলেছেন, উচ্চশিক্ষার প্রতিটি বিষয়౼ পুঁথিগত দিক, পরিভাষাগত দিক, বৃত্তিমূলক দিক ইত্যাদি সব কিছুকে সঙ্কটের বাইরে নিয়ে আসতে হবে।

2020র জাতীয় শিক্ষা নীতিকে সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন।

পর্যায়ক্রমে স্বায়ত্ত্বশাসনের ধারণার পিছনে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে যেখানে প্রতিটি কলেজ, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতায় উৎসাহ দেওয়া হবে, যেসব প্রতিষ্ঠান ভালো করবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আর আমরা এখন এই জাতীয় শিক্ষানীতিকে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমি চাইবো আপনারা সকলে ২৫শে সেপ্টেম্বরের আগে আপনাদের রাজ্যে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এ ধরণের ভার্চুয়াল কনফারেন্স আরও বেশি করে আয়োজন করুন। জাতীয় শিক্ষানীতির বিষয়ে বোঝানোর জন্য নিরলসভাবে উদ্যোগী হোন, আমরা যাতে আরও ভালোভাবে বিষয়টি বুঝতে পারি সেই চেষ্টাই করা উচিত। আবারও সময় বের করার জন্য আমি আপনাদের প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি আরও বলেছেন, জাতীয় শিক্ষানীতি যুবকদের একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয়তা অনুসারে উচ্চাকাঙ্খা পূরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক নথি তৈরিতে দূরদর্শীতার সঙ্গে যে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দিত করেছেন। তিনি ডঃ কস্তুরীরঙ্গন, মন্ত্রী এবং আধিকারিকদের এই শিক্ষানীতি তৈরিতে তাঁদের ভূমিকার জন্য প্রশংসা করেছেন। এই জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরির ক্ষেত্রে আড়াই লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েত, ১২ হাজার ৫০০র বেশি স্থানীয় প্রশাসন এবং ৬৭৫টি জেলা থেকে গৃহীত ২ লক্ষ পরামর্শ বিবেচনা করা হয়েছে। এই পরিবর্তনকে যদি যথাযথভাবে রূপায়িত করা যায় তাহলে দেশ শিক্ষাক্ষেত্রে মহাশক্তিতে পরিণত হবে বলে রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেছেন। 

এই শিক্ষানীতির বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার সময় রাষ্ট্রপতি বলেছেন, রাজ্যগুলির রাজ্যপালরা যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য,  তাই এই নীতি প্রণয়নে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভিন্ন রাজ্যে ৪০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৪০ হাজার কলেজ রয়েছে, এক্ষেত্রে রাজ্যপালদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন।

শ্রী কোবিন্দ বলেছেন, সামাজিক ন্যায় আনার ক্ষেত্রে শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। তাই কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির মাধ্যমে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৬ শতাংশ এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা উচিত। ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং দেশাত্মবোধ জাগ্রত করার জন্য জাতীয় শিক্ষানীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

এই শিক্ষানীতি সম্পর্কে রাজ্যপালদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, এই নীতিতে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তরে সব শিশুরা যাতে মৌলিক সাক্ষরতা এবং গণনা করতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিক্ষকদের ভূমিকার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, শিক্ষকরা নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। তাই শিক্ষকতার জন্য সম্ভাবনাময় ব্যক্তিত্বদের বাছাই করা হবে। এরজন্য আগামী বছর থেকে একটি নতুন ও সর্বাঙ্গীন পাঠ্ক্রম শিক্ষক-শিক্ষণের জন্য চালু করা হবে।

কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, দেশের মোট কর্মীসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি শিক্ষা পেয়ে থাকেন, পশ্চিমী দুনিয়ার তুলনায় যা অত্যন্ত নগণ্য। জাতীয় শিক্ষানীতিতে এ কারণে মূল ধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় কারিগরি শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। এরফলে ছেলেমেয়েরা দক্ষই হয়ে উঠবে না, তারা শ্রমের মর্যাদা এবং প্রাপ্য সম্মান অর্জন করবে।

উন্নতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বহু বিষয়ক শিক্ষার যে ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে রয়েছে, নতুন শিক্ষানীতিতে এ দেশেও তা প্রচলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, পশ্চাৎপদ এলাকাগুলিতে এক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এরফলে আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ভারতকে আন্তর্জাতিক স্তরে শিক্ষার গন্তব্যস্থলে পরিণত করতে নামী বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যাতে এদেশে শিক্ষাদান করতে পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

শ্রী কোবিন্দ বলেছেন, এই শিক্ষানীতির সাফল্য কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। যেহেতু শিক্ষা সংবিধানের যুগ্ম তালিকায় রয়েছে তাই কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। রাজ্যপালদের উৎসাহের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, কোন কোন রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই জাতীয় শিক্ষানীতি রূপায়ণে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছেন। তিনি রাজ্যপালদের, এ বিষয়ে ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজনের ব্যবস্থা করার জন্য প্রস্তাব দেন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রককে এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে বলেন। তাঁর বক্তব্যের শেষে শ্রী কোবিন্দ জানান ভারতকে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে রাজ্যপাল এবং শিক্ষামন্ত্রীদের ভূমিকা অত্যন্ত সহায়ক হবে।

ইতিমধ্যেই জাতীয় শিক্ষা নীতি নিয়ে আপত্তি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন, আর এবার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জাতীয় শিক্ষানীতির বেশ কয়েকটি পয়েন্ট নিয়ে তাঁর আপত্তির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "জাতীয় শিক্ষানীতি রাজ্যের ওপর  চলবে না. এতে দেশের ফেডারাল পরিকাঠামো আঘাতপ্রাপ্ত হবে।"

Loading...

Amazon

https://www.amazon.in/Redmi-8A-Dual-Blue-Storage/dp/B07WPVLKPW/ref=sr_1_1?crid=23HR3ULVWSF0N&dchild=1&keywords=mobile+under+10000&qid=1597050765&sprefix=mobile%2Caps%2C895&sr=8-1

Pages