ভারতের সাথে বিবাদ যে চীনকে নাতাজনু করে দেবে তা ভাবেনা নি জিনপিং - আজ খবর । দেখছি যা লিখছি তাই । ডিজিটাল মিডিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম

Sonar Tori


ভারতের সাথে বিবাদ যে চীনকে নাতাজনু করে দেবে তা ভাবেনা নি জিনপিং

Share This
আন্তর্জাতিক

আজ খবর (বাংলা), হংকং, ২১/০৭/২০২০ : দক্ষিণ চীন সাগরে বিভিন্ন দেশের সাথে চীনের বিবাদ এক দশকেরও পুরোন একটি সমস্যা। কিন্তু সেই সমস্যাকে এখন আপাতত যুদ্ধের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে পূর্ব লাদাখে ভারত ও চীনের সীমান্ত সংঘাত।   
চীনের আগ্রাসন নীতি  নিয়ে শুধু আমেরিকা নয়, সরব হয়ে এসেছে চীন সীমান্তের সাথে যুক্ত থাকা বিভিন্ন দেশগুলিও। চীন সুকৌশলে নিজেদের সীমান্ত একটু একটু করে বাড়িয়েই চলেছে। চীনের পশ্চিম দিকের অংশটা ছিল ঝিনঝিয়াঙ প্রদেশ যা এক সময় দখল করেছিল চীন। শুধু তাই নয়, সেই জায়গার নাম বদলে নতুন নাম রাখা হয়েছিল সিকিয়াং নামে। ভারতের সাথে চীনের কোনো সীমান্তই ছিল না। কিন্তু তিব্বত দখল করে নেওয়ার পরে ভারতের সাথে চীনের সীমান্ত স্পর্শ করে। উত্তর দিকে মঙ্গোলিয়াকে চীন নিজেদের দেশ বলেই মনে কারে। এমনকি রাশিয়ার ব্ল্যাডিভস্টক জায়গাটিকেও চীন নিজেদের জায়গা বলে দাবি করেছে। 
হংকং , তাইওয়ান নিয়ে চীনকে প্রচুর বিক্ষোভ, বিদ্রোহের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সমুদ্র সীমানা নিয়েও বিভিন্ন দেশের সাথে বিবাদে জড়িয়েছে চীন, সেই তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার মত দেশগুলির নাম। দক্ষিণ চীন নিয়ে বিবাদে এখন অংশ নিয়েছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও অস্টেলিয়াও। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ চীন সাগরে যুদ্ধ্যাভ্যাস  শুরু করে দিয়েছে বেশ কিছু দেশ। ভারতও ভারত মহাসাগরে নৌ বাহিনীকে সক্রিয় করে তুলেছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপূঞ্জে ভারতীয় নৌ বাহিনী নিজেদেরকে চুড়ান্ত প্রস্তুত করে রেখেছে। 
এই মুহূর্তে চীনকে সমর্থন করেছে পাকিস্তান ও ইরানের মত গুটি কয়েক দেশ, কিন্তু ভারতকে ঘিরতে গিয়ে চীন এখন দেখছে সে নিজেই চারদিক থেকে ঘিরে গিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলি চীনকে রীতিমত কোনঠাসা করে তুলেছে কূটনৈতিক দিক থেকে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে উঠেছে যে, চিনের অর্থনীতিকে রীতিমত কাবু করে ফেলেছে বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতা।  এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চীনকে এখন ভারতকে প্রাধান্য দিতেই হচ্ছে। তাদের দেশের ঝুঠা অস্ত্র ঝংকার শুনিয়ে চীন এতদিন ভারতকে দাবিয়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু ভারত যে আর সেই আগের ভারত নেই, ১৯৬২ সালের ভারত নেই, সেটা বুঝতেই পারে নি চীন প্রজাতন্ত্র। ভারতকে যে এখন আর সেভাবে দাবিয়ে রাখ সম্ভব নয়, সেই আন্দাজটা চীন করে উঠতে পারে নি। 
ভারতের ক্রমাগত চাপের  সামনে মাথা নিচু করে চীনকে পিছনে সরে  যেতেই হয়েছে। আসলে চীন ভারতে সাম্প্রতিক শক্তি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল থাকলেও বিষয়টাকে আদৌ গুরুত্ত্ব দেয় নি, অনেকটাই আন্ডার এস্টিমেট করেছিল। কিন্তু যুদ্ধ এখন অনেক পরে হয়, তার আগে জিতে নিতে হয় অর্থনীতি, কূটনীতি, রাজনীতি এবং সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রে। চীন এই সব ক্ষেত্রেই ভারতের কাছে কয়েক গোল খেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তাই যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে এক পা বাড়াতে চীনকে এখন হাজার বার চিন্তা করতে হচ্ছে। 
কূটনীতির বাজারে যে এভাবে ভারতকে প্রায় গোটা বিশ্ব সমর্থন দেবে তা বোধ হয় চীন ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারে নি। ভারত এখন আন্তর্জাতিক বিশ্বে সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের একজন, কিন্তু চীন চেয়েছিল বিশ্ব বাজারে সবচেয়ে বড়  বিক্রেতা হতে। আর এখানেই মার খেয়েছে চীন। বিশ্ব বাজারে বিক্রেতার চেয়েও ক্রেতার দর অনেক বেশি, সেটা ভুলে গিয়েছিল চীন। ভারত যেভাবে বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী দেশ থেকে দ্রুত অত্যাধুনিক অস্ত্র শস্ত্র কিনে ফেলেছে এবং এখনো কিনছে , তা চীনের কপালে ভাঁজ ফেলেছে অনেকটাই। শুধু তাই নয়, সাইবার প্রযুক্তি দিয়েও ভারতকে কাবু করতে পারে নি চীন, যেটা চীন স্বপ্নেও ভাবতে পারে নি। উল্টে সব চীনা এপলিকেশন বাতিল করে চীনের অর্থনীতির কোমর অনেকটাই ভেঙে দিয়েছে ভারত। ভারতের এই পদক্ষেপকে এখন বিশ্বের বহু দেশ অনুসরণ করতে চলেছে, যা চীনের অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মানুষজন। ভারতের সাথে বিবাদ যে এভাবে চীনা আগ্রাসন নীতিকে রীতিমত তছনছ করে দেবে তা ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারে নি চীন, আর এখানেই চিনের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা চীনকে দ্রুত গোটা বিশ্বের সামনে নতজানু করতে বাধ্য করবে।
Loading...

Amazon

https://www.amazon.in/Redmi-8A-Dual-Blue-Storage/dp/B07WPVLKPW/ref=sr_1_1?crid=23HR3ULVWSF0N&dchild=1&keywords=mobile+under+10000&qid=1597050765&sprefix=mobile%2Caps%2C895&sr=8-1

Pages