সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী - আজ খবর । দেখছি যা লিখছি তাই । ডিজিটাল মিডিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম

Sonar Tori


সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী

Share This
 রাজ্য

আজ খবর (বাংলা), নতুন দিল্লী, ৩০/০৩/২০২০ : এই লড়াইয়ে এমনও অনেক যোদ্ধা আছেন যাঁরা ঘরে নয়, ঘরের বাইরে থেকে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করছেন যাঁরা আমাদের ফ্রন্টলাইন সোলজার্স-সামনের সারির যোদ্ধা। এর মধ্যে বিশেষ করে আমাদের সেই সব ভাইবোনেরা রয়েছেন যাঁরা নার্সিংয়ের কাজ করেন, রয়েছেন ডাক্তার এবং প্যারামেডিকেল কর্মীরা। সেই সব বন্ধুরা যাঁরা করোনাকে পরাজিত করেছেন, তাঁদের থেকে আমাদের প্রেরণা নিতে হবে। গত কয়েক দিনে আমি এই রকম কিছু মানুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি,  তাঁদের উৎসাহ দিয়েছি এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আমার নিজেরও উৎসাহ বেড়ে গেছে।“
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই-এ সবথেকে কার্যকরী উপায় হল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রতিরোধমূলক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মেনে চলে জনগণ আসলে নিজেদেরই রক্ষা করছেন।
মন কি বাত ২.০ র দশম পর্বে সকলের সঙ্গে তাঁর চিন্তা ভাবনা ভাগ করে নেবার সময় শ্রী মোদী আজ বলেন, “আপনাদের নিজেকে বাঁচতে হবে, নিজের পরিবারকে বাঁচাতে হবে। এখন আগামী বেশ কিছু দিন পর্যন্ত আপনাদের এই ধৈর্য দেখাতে হবে, লক্ষণরেখাটি মেনে চলতে হবে। সকল ভারতবাসীর সঙ্কল্প ও সংযম এই সঙ্কট থেকে উত্তরণে সাহায্য করবে”।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরো মানবজাতিকে একজোট হয়ে এই ভাইরাসকে খতম করার সংকল্প নিতে হবে।যে ভাইরাস মানুষকে শুধু মারা নয়, একেবারে শেষ করে দেবার জেদ ধরে বসে আছে।

তিনি বলেন, “ করোনা ভাইরাস জ্ঞান, বিজ্ঞান, ধনী, দরিদ্র, দুর্বল, শক্তিমান — সকলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। একে কোনো রাষ্ট্রসীমায় বাঁধা যায় না, কোনো এলাকা বা আবহাওয়ারও এ তোয়াক্কা করে না। এই ভাইরাস মানুষকে শুধু মারা নয়, একেবারে শেষ করে দেবার জেদ ধরে বসে আছে, আর সেই জন্যেই সব্বাইকে, পুরো মানবজাতিকে একজোট হয়ে এই ভাইরাসকে খতম করার সংকল্প নিতে হবে”।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের মত ১৩০ কোটি জনসংখ্যার একটি দেশে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্য আর কোনো রাস্তা ছিল না। করোনার সঙ্গে যুদ্ধ হল জীবন আর মৃত্যুর যুদ্ধ, আর এই যুদ্ধ আমাদের জিততেই হবে। আর সেজন্যেই কঠিন হওয়া জরুরি। কারুর ইচ্ছে করে না এত কঠোর পদক্ষেপ নিতে, কিন্তু গোটা দুনিয়ার অবস্থা দেখার পর মনে হয় এছাড়া গত্যন্তর ছিল না। তিনি বলেন সকলের নিজেকে এবং  পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
শ্রী মোদী বলেন, যারা লকডাউনের নিয়ম ভাঙছেন, তাঁরা পরিস্থিতির গুরুত্বটাই এখনও বুঝতে পারছেন না। লকডাউনের নিয়ম যদি কেউ ভাঙেন তাহলে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচা মুশকিল হয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সারা পৃথিবীতে কিছু লোক, যাঁরা এই রকম ভুল করেছিলেন, তাঁরা আজ পস্তাচ্ছেন।যেহেতু করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটা অভূতপূর্ব এবং চ্যালেঞ্জিং, তাই এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা আগে কেউ শোনেনও নি”।
তিনি বলেন, করোনাকে আটকানোর জন্য যাবতীয় যা পদক্ষেপ ভারতবাসী নিয়েছে, যে প্রয়াস এখন আমরা করছি — সেটাই করোনা মহামারীতে ভারতকে জয় এনে দেবে।
তিনি বলেন, “গরীবদের প্রতি আমাদের সমবেদনা আরও বেশি তীব্র হওয়া উচিত। আমাদের মানবতার প্রমাণ এখানেই যে কোথাও কোনো গরীব, দুঃখী, অভুক্ত মানুষ দেখতে পেলেই এই সঙ্কটের সময়ে আমরা প্রথমে তার পেট ভরানোর ব্যবস্থা করব”
তিনি বলেন, তাঁদের  প্রয়োজনের কথা ভাবব আর এটা ভারত করতে পারে। এটা আমাদের সংস্কার, এটা আমাদের সংস্কৃতি।  
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস জ্ঞান, বিজ্ঞান, ধনী, দরিদ্র, দুর্বল, শক্তিমান — সকলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। একে কোনো রাষ্ট্রসীমায় বাঁধা যায় না, তাই তিনি মন কি বাতের এই পর্বে এই বিষয়টি  নিয়ে কথা বলছেন।  

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং বলেন, কিছু সিদ্ধান্তের জন্য সকলকে যে প্রচণ্ড অসুবিধার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে, সেজন্য দেশবাসী নিশ্চয়ই তাঁকে মার্জনা করে দেবেন। বিশেষ করে  গরীব ভাই-বোনেরা নিশ্চয়ই ভাবছেন যে এ কেমন প্রধানমন্ত্রী, যে তাদের এই রকম মুস্কিলে ফেলে দিল! তাঁদের কাছেও তিনি বিশেষভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লড়াইয়ে এমনও অনেক যোদ্ধা আছেন যাঁরা ঘরে নয়, ঘরের বাইরে থেকে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করছেন যাঁরা আমাদের ফ্রন্টলাইন সোলজার্স-সামনের সারির যোদ্ধা। এর মধ্যে বিশেষ করে আমাদের সেই সব ভাইবোনেরা রয়েছেন যাঁরা নার্সিংয়ের কাজ করেন, রয়েছেন ডাক্তার এবং প্যারামেডিকেল কর্মীরা। সেই সব বন্ধুরা যাঁরা করোনাকে পরাজিত করেছেন, তাঁদের থেকে আমাদের প্রেরণা নিতে হবে। গত কয়েক দিনে শ্রী মোদী এই রকম কিছু মানুষের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন,  তাঁদের উৎসাহ দিয়েছেন, এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলে  তাঁর নিজেরও উৎসাহ বেড়ে গেছে। তিনি তাঁদের থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান।  
করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা সমাজের সত্যিকারের নায়ক যাঁরা এই যুদ্ধের পুরোধা ভাগে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পাড়ার ছোটো মুদির দোকানটির কথা উল্ললেখ করেন, যিনি  এই দুঃসময়ে অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন যাতে আমাদের  নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পেতে কোনো অসুবিধেতে না পড়তে হয়।  ঠিক ওই রকম ভাবেই  ড্রাইভার বা গাড়ি চালক বা সেই সব  কর্মীরা যাঁরা নিরলস ভাবে নিজেদের কাজ করে চলেছেন যাতে দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসের সাপ্লাই চেন বা পণ্য সরবরাহের শৃঙ্খলে কোনো ছেদ না পড়ে।    
শ্রী মোদী আরো জানান, তাঁর সরকার ব্যাঙ্ক পরিষেবাকে চালু রেখেছে, আর  ব্যাঙ্ক কর্মীরা আন্তরিকভাবে, নিবেদিত হয়ে এই লড়াইয়ের পুরোভাগে থেকে ব্যাংকগুলি সামলাচ্ছেন আর দেশের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। আজকের এই সময়ে এই সেবা নেহাত নগণ্য নয়।  এছাড়া ই-কমার্স বা ডিজিট্যাল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত  অসংখ্য  কোম্পানির  বিতরণ কর্মী  কাজ করছেন। এই লোকগুলি এই কঠিন পরিস্থিতেও মুদির জিনিসপত্র বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। এই সময়ে, যাঁরা ডিজিটাল পেমেন্ট সহজে এবং স্বচ্ছন্দেই করতে পারছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন যে এর পেছনেও অনেক মানুষ কাজ করে চলেছে। সংশিষ্ট ব্যক্তিরা এই প্রতিরোধমূলক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্যেই দেশের অত্যাবশ্যকীয় কাজ সামলাচ্ছেন। সকল দেশবাসীর পক্ষে তিনি  তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানান আর  অনুরোধ করেন যে ওঁরা যেন সবরকম সতর্কতা মেনে নিজেকে নিরাপদ রেখে চলেন আর নিজের পরিবারকেও সাবধানে রাখেন।  
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের একে অন্যের থেকে কেবল সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখতে হবে, ইমোশনাল বা হিউম্যান ডিসট্যান্স নয়। এমন মানুষজন কোনো অপরাধী নন, বরং ভাইরাসে সম্ভাব্য আক্রান্ত। এই সব মানুষজন অন্যদের সংক্রমণ থেকে  বাঁচাতে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে আর কোয়ারান্টাইনে থেকেছে। অনেক জায়গায় লোকজন নিজেদের দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। এমনকি ভাইরাসের কোনো লক্ষণ দেখা না দিলেও তাঁরা নিজেদের কোয়ারান্টাইন করেছে। এটা তাঁরা এই কারণে করেছেন যে তাঁরা বিদেশ থেকে ফিরেছেন এবং দ্বিগুণ সাবধানতা অবলম্বন করছেন। এটা তাঁরা নিশ্চিত করতে চাইছেন, যে কোনো অবস্থাতেই আর এক জন যেন এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত না হন। এই কারণে, যখন লোকজন নিজেরাই এতটা দায়িত্বের পরিচয় দিচ্ছেন তখন তাঁদের  সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা উচিত নয় বরং সহানুভূতি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করা আবশ্যক।
করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার সবথেকে কার্যকরী পদ্ধতি হল সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা। তিনি আবারো সকলকে বাড়িতে থেকে এই যুদ্ধে জয়লাভ নিশ্চিত করতে বলেন।
Loading...

Amazon

https://www.amazon.in/Redmi-8A-Dual-Blue-Storage/dp/B07WPVLKPW/ref=sr_1_1?crid=23HR3ULVWSF0N&dchild=1&keywords=mobile+under+10000&qid=1597050765&sprefix=mobile%2Caps%2C895&sr=8-1

Pages