বাংলায় ইঁদুর মরলেও সিবিআই হয়, দিল্লিতে এত লোক মারা গেল, কোন ইনকোয়ারি নেই " : মমতা - আজ খবর । দেখছি যা লিখছি তাই । ডিজিটাল মিডিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম

Sonar Tori


বাংলায় ইঁদুর মরলেও সিবিআই হয়, দিল্লিতে এত লোক মারা গেল, কোন ইনকোয়ারি নেই " : মমতা

Share This
রাজনীতি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ফাইল চিত্র)

আজ খবর (বাংলা), ওল্ড মালদা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৪/০৩/২০২০ : ২০১৯এর লোকসভা নির্বাচনে মালদায় আশানুরূপ ফল করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস, সেই ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেন নি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ ওল্ড মালদায় কর্মিসভা করতে গিয়ে সেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে  কর্মীদের সব কোন্দল ভুলে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগামী নির্বাচনগুলোতে লড়াই করার ডাক দিলেন তিনি।
আজ ওল্ড মালদার কর্মীসভায় মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমি বহু বছর ধরে মালদায় আসছি। মালদা জেলার প্রায় সর্বত্রই আমি এসেছি। আপনারা যখন যা কিছু চেয়েছেন, আমি তাই করে দিয়েছি। কিন্তু মালদার নেতারা কবে ঐক্যবদ্ধ হবেন ? মনে রাখবেন বুথে বসে কাজ করা কর্মী বা দলের ঝান্ডা ধরা পার্টির সাধারণ কর্মীই হল দলের আসল সম্পদ। আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন আমার নেতা কে ? আমি বলব, আমার নেতা হল মা-মাটি-মানুষ, আমার নেতা দেশের জনগণ, আমার নেতা বাংলার জনগণ। আর মা-মাটি-মানুষের নেতা হল জোড়া ফুল, তৃণমূল।"
মমতা উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "কে কত বড় নেতা সেটা বড় কথা নয় কেন ভোট অন্য জায়গায় চলে যায়, সেটা আমি খুব ভাল করেই জানি। যতদিন না মালদা পুনরুদ্ধার হচ্ছে, ততদিন শুধু কয়েকটা নেতার সাথে আমি বৈঠক করে চলে যাব না। কলকাতা থেকে কয়েকজন নেতা এসে প্রতিবার আপনাদের ইন্ধন যোগাবে ? যদি মুর্শিদাবাদ উদ্ধার হাতে পারে, তাহলে মালদা কেন নয় ? ভোটের সময় যা যা দরকার তার সবটা হয়ত আমরা দিতে পারি না। মালদায় কেন এত গোষ্ঠীদ্বন্দ ? কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এখানে লড়তে হবে মৌসম এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে দলে যোগ দিল সে এত দৌড়ে কাজ করে আর তাকেই জিততে দেওয়া হল না ! আর যেকাজই  করে না, সে জিতল কি করে ? লোকসভা ভোটে এখানে বিজেপি-কংগ্রেস জোট হয়েছিল।"
এর পর মমতা মঞ্চে উপস্থিত স্থানীয় নেতাদের নাম ধরে ধরে ভর্ৎসনা করতে থাকেন। বিশেষ করে সাবিত্রী মিত্রকে বলেন, "সাবিত্রী একদম ঝগড়া করবে না। নিজেরা ঝগড়া মিটিয়ে নাও।" এরপর মঞ্চ থেকেই তিনি স্থানীয় নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেন; যেমন কৃষ্ণেন্দুকে ইংরেজ পুরসভার ১,৪,৫,৭,৮,৯, ১০,১২,১৯,ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দিয়ে দেন। নিহারকে দেন ৩,৬,১৫,১৬,১৭ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব, বাবলাকে দেন ১৪,২০,২১,২৪,২৫,২৭ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব। নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারিকে দেন ২২ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব, অম্লান ভাদুড়ীকে দেন ১১ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব। ওল্ড মালদার দায়িত্ব দেন কার্তিক ঘোষকে, সাবিত্রী মিত্রকে দেন মানিকচকের দায়িত্ব, তাঁকে সহযোগিতা করবেন গৌড় মন্ডল। কৃষ্ণেন্দুকে হবিবপুর ও গাজোলের দায়িত্বও দেওয়া হয়, বাবলা সরকারকে জেলার অভ্যন্তরের গ্রামগুলিতে যেতে বলেন। রতুয়া, মানিকচক বা হরিশ্চন্দ্রপুরের মত অন্যান্য জায়গার বিষয়ে তিনি সম্ভবত পরে জানিয়ে দেবেন। তবে পুরো মালদা জেলার সার্বিক দায়িত্বের ব্যাপারে মমতা মৌসুমের ওপারেই নির্ভর করতে চাইছেন। তিনি মৌসুমকে আরও দায়িত্ব ও চাপ নেওয়ার কথা বলেন।
মমতা বলেন একসাথে কাজ করতে পারলে আমরা এখানে ১২টি বিধানসভা আসনই পাব। কিন্তু সব বিভেদ ভুলে কোন্দল ভুলে একসাথে কাজ করতে হবে।
এরপর মমতা বলেন, "মালদায় আমও হয়, আবার আমসত্বও  হয়, যখন এখানে আমের ফলন বেশি হয়, তখন আমরা ট্র্যান্সপোর্টের ব্যাস্থা করে দিয়েছি। এখন তো এখানে ভুট্টাও হচ্ছে। এখন আর আমার কাছে কিছু চাইবেন না। এখন আমি চাইব আপনাদের কাছে।"
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, "বাংলায় কোনো ভেদাভেদ নেই। এখানে আমরা দাঙ্গা করতে দিই না, বাইরে থেকে কিছু লোক এসে এখানে উস্কানি দিয়ে দাঙ্গা লাগায়। যখন আপনারা বিপদে পড়বেন, তখন আর ওদেরকে পাশে পাবেন না। এখানে CAA, NRC, NPR কোনোটাই হবে না। বিজেপির লোকেদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন তোমাদের সিটিজেনশিপ কোথায় ? পঞ্চায়েত ভোটের আগে বলেছিলাম সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি হল জাগাই-মাধাই-গদাই, খাল কেটে কুমির আনবেন না। তৃণমূল কথা দিলে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তা রক্ষা করে, আর অন্যেরা ভাঁওতা দেয়।"
দিল্লীর সংঘর্ষের বিষয়ে মমতা বিজেপিকেই নিশানা করে বলেন, "দিল্লীতে কত লোককে হত্যা করা হল দেখেছেন ? এখন করোনা ভাইরাস দেখাচ্ছে। করোনা নয়, দিল্লীতে গণহত্যাই হয়েছে। আজ পর্যন্ত তার জন্যে বিজেপি ক্ষমা চাইল না। গুজরাট মডেলে দিল্লীতে গণহত্যা করা হয়েছে। সরকারি সংখ্যা বলছে ৫০ জন মারা গিয়েছে, আসল সংখ্যা কেউ জানে না। এখন করোনা বলে আসল ঘটনা গুলিয়ে দিতে চাইছে। বাংলায় ইঁদুর মরলেও সিবিআই হয়, আর দিল্লিতে এত লোক মারা গেল, কোন ইনকোয়ারি নেই !"
কলকাতায় বিজেপি সমর্থকের গ্রেপ্তারি নিয়েও মমতা সুর চড়াতে ভোলেন নি, তিনি বলেন, "শান্তিতে তুমি মিছিল করে চলে গেলে, আর কতগুলো গুন্ডা মিছিল করে, মাথায় ফেট্টি বেঁধে বলছে গোলি মারো ! আমি বলছি, অত সোজা নয়. দিল্লী আর কলকাতা এক নয়। সাত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছি। আরও যারা এই কথা বলছে, তাদেরকেও গ্রেপ্তার করব।"
এরপর ফের মালদহের প্রসঙ্গে ফেরেন । তিনি বলেন, "মালদা থেকে ১টা কংগ্রেস আর ১তটা  বিজেপিকে জিতিয়েছেন। এরপর শান্তি পাবেন ? আমরা এত প্রকল্প করেছি এখানে, তাও ওদের জেতালেন ? এই দল তো জিতে চলে গেছে আর জিতে গিয়ে বলছে এলআইসি বেচে দেব, রেল বিক্রি করে দেব, ব্যাংক বিক্রি করে দেব, ওরা গোটা দেশকেই বিক্রি করে দেবে। বিজেপিকে ধিক্কার। আমি ঘৃণা করি বিজেপিকে। এনজিও'র নাম করে স্কুল খুলে অন্যরকম শিক্ষা দিচ্ছে। আপনার ঘরে চাল নেই ? আমরা একমুঠো চাল খেলে তার থেকে আপনাকে আধমুঠো দেব। আর ওরা আপনার প্রাণ, অস্তিত্ব সবকিছু কেড়ে নিয়ে চলে যাবে। ওদের প্রতিবাদ করলেই রক্তের হোলি।"
শেষে মমতা বলেন, "বলুন বিজেপি আর না। সিপিএম আর না, আর না । বাংলায় আমরা ভেদাভেদ করতে দেব । আমি সারাজীবন বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করে এসেছি। দিল্লীকে আমরা পরোয়া করি । দিল্লীর চোখ রাঙানিকে ভয় পাই না। আমরা আমাদের মা বোনেদের কেয়ার করি। আর কাউকে না। ওরা একদিকে দিল্লীতে মানুষ মারছে, অন্যদিকে আবার মধ্যপ্রদেশে বিধায়কদের লুকিয়ে রেখে সরকার দখলের চেষ্টা করছে ! আসাম দখল করেছ, ত্রিপুরা দখল করেছ। সেখানেও মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছি না। এখন ওরা টাকার খেলা দেখাচ্ছে । দুদিন আগে পুরীতে জগন্নাথদেবের পুজো দিতে গিয়ে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আমার গোত্র কি ? আমি বলেছি আমার গোত্র হল 'মা- মাটি  মানুষ'। কোথাও কোথাও গ্রামে বিএসএফ বিজেপির হয়ে কাজ করছে। অত্যাচার করছে। আপনারা তাদের বলবেন, এটা রাজ্য পুলিশের ল এন্ড অর্ডারের কাজ, আপনাদের কাজ নয়।" 
Loading...

Amazon

https://www.amazon.in/Redmi-8A-Dual-Blue-Storage/dp/B07WPVLKPW/ref=sr_1_1?crid=23HR3ULVWSF0N&dchild=1&keywords=mobile+under+10000&qid=1597050765&sprefix=mobile%2Caps%2C895&sr=8-1

Pages