আমার কুশপুতুল জ্বালান, কিন্তু দেশের সম্পত্তি জ্বালাবেন না : মোদী - আজ খবর । দেখছি যা লিখছি তাই । ডিজিটাল মিডিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম

Sonar Tori


আমার কুশপুতুল জ্বালান, কিন্তু দেশের সম্পত্তি জ্বালাবেন না : মোদী

Share This
 রাজনীতি


আজ খবর নতুন দিল্লী, ২২/১২/২০১৯ :  সিটিজেনস এমেন্ডমেন্ট আইন নিয়ে উত্তাল দেশের বিভিন্ন রাজ্য। তার মধ্যেই আজ দিল্লীর রামলীলা ময়দান থেকে ভাষণ দিলেন  দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লীতে নির্বাচনের খুব বেশি দেরি নেই, তাই তাঁর ভাষণের প্রথম পর্বে ছিল দিল্লীর উন্নয়নের কথা;
নরেন্দ্র মোদী বলেন, " বিবিধের মাঝে ঐক্য ভারতের ঐতিহ্য। সেই বৈশিষ্টকে নিয়ে ভারতবাসী গর্ব অনুভব করে। তাই সেই ঐতিহ্য বা বৈশিষ্টকে এগিয়ে নিয়ে চলতে বিজেপি বদ্ধপরিকর। সমস্যা জিইয়ে রাখা বিজেপির নীতি নয়; দিল্লীর অনেক মানুষ , বিশেষ করে যাঁরা কলোনিতে বাস করেন, তাঁদের অনেকেই নিজেদের বাসস্থান নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী উদয় যোজনার মাধ্যমে বহু মানুষ নিজের বাড়ি পেয়েছেন। দিল্লীতে একটা সময় কোটি কোটি টাকার সরকারি বাংলোগুলিকে দখল করে রেখে দেওয়া হয়েছিল, আমাদের সরকার এসে সেই বাংলোগুলিকে দখলমুক্ত করতে পেরেছে। আগে দিল্লী মেট্রোর বিস্তার হত বছরে ১৪ কিলোমিটার, তখন দিল্লীতে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার একটাই ছিল, আর এখন প্রতি বছর বিস্তার লাভ করে প্রায় ২৫ কিলোমিটার। দিল্লীতে রাজ্য সরকার যে কাজ করে, তাতে এখানকার মানুষ মরে মরে বেঁচে আছেন কোনোক্রমে, রাজনৈতিক দলগুলো শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়, কিন্তু সেগুলি পূর্ণ করি আমরা। দিল্লীতে দূষণ কমাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এখন দিল্লী মেট্রোয় আর ট্রাক ঢোকেনা, বিদ্যুৎ চালিত গাড়িতে চার্জ দেওয়ার জন্যে দিল্লীতে অনেকগুলি স্টেশন বসিয়েছি। এখানে এখনো পরিশ্রুত পানীয় জলের সংকট রয়েছে, দিল্লীর রাজ্য সরকার এর আগে কি কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সত্যতা মানুষ এখন দেখছে।"
এর পর মোদী সিটিজেনস এমেন্ডমেন্ট আইনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন "দিল্লীর সংসদে দেশের আইন অনুযায়ী পাস হয়েছে সিটিজেনস এমেন্ডমেন্ট আইন, কিন্তু এই বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর কিছু রাজনৈতিক দল এই আইন নিয়ে দেশের মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে, মিথ্যা কথা বলছে, এমনকি সাধারণ মানুষকে উস্কানিও দিচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই, দিল্লীতে যখন আমি কলোনিগুলি তৈরী করে দিয়েছিলাম, তখন কি আমি জানতে চেয়েছিলাম আপনার ধর্ম কি ? বলেছিলাম নিজেদের পরিচয় পাত্র নিয়ে আসুন ? সব ধর্মের মানুষই সেই সুবিধা পেয়েছিল। আমরা সবকা সাথ, সবকা বিকাশ মন্ত্রে দীক্ষিত । একই বিলে দিল্লীতে ৪০ লাখ মানুষকে অধিকার দিয়েছি, আর বিরোধীরা বলছে আমি নাকি অধিকার কেড়ে নেওয়ার আইন তৈরী করছি। আপনারা দেখে নিন, আমি কি কি কাজ করেছি। তার মধ্যে কোনো কাজের মধ্যে যদি খারাপের গন্ধটুকুও পাওয়া যায় তাহলে সেটা দেশের সামনে আনুক । উজ্জ্বলা প্রকল্পে যখন বাড়ি বাড়ি গ্যাসের লাইন দিয়েছিলাম তখন কি আমি কারোর ধর্ম দেখতে গিয়েছিলাম ? দেশ জুড়ে দেড় কোটি মানুষ আবাস  যোজনায় ঘর পেয়েছেন, বাড়িতে বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে, তখন কি আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনার ধৰ্ম কি ? আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া মানুষদের আমি কি জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনাদের ধৰ্ম কি ? তাহলে কেন আমার ওপর মিথ্যা বদনাম করা হচ্ছে ? আসলে, মিথ্যা বদনাম করে দেশের নামকেই বদনাম করা হচ্ছে। পাকিস্তানের মাটিতে সংখ্যালঘুদের ওপর কি অত্যাচার হয়, আমি ভেবেছিলাম সেটা গোটা দুনিয়ার সামনে নিয়ে আসব, কিন্তু যেভাবে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে হিংসাত্মক আন্দোলন করা হচ্ছে, তাতে সেই সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেল; গোটা দেশে একটা অরাজক অবস্থা তৈরী করার চেষ্টা চলছে। ছোট ছোট দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, গাড়ি বাইক জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যারা এটা করছে, কেমন রাজনৈতিক তারা ? প্রথমবার নির্বাচনে যত  মানুষের আশীর্বাদ পেয়েছিলাম, পরেরবার নির্বাচনে তার চেয়েও বেশি মানুষের আশীর্বাদ লাভ করেছি, সেটাই বিরোধীদের আর সহ্য হচ্ছে না";
মোদী বলেন, "যদি মোদিকে পছন্দ না হয়, মোদিকে ঘৃণা কর, গালি দাও, যত পারো জুতো মারো, মোদির কুশপুতুল জ্বালিয়ে দাও, কিন্তু সরকারি সম্পত্তি জ্বালিও না. গরিবের অটো জ্বালিও না, তাদের ঝুপড়ি জ্বালিও না; যারা পুলিশকে পাথর মারতে পাঠাচ্ছে, তারা কিন্তু আড়ালে থেকে নিজেদের মুখ লোকাচ্ছে। পুলিশ আমাদের সাহায্য করে, সুরক্ষা দেয়, প্রাণ বাঁচায়, আর তাদেরকেই পাথর মারতে পাঠানো হচ্ছে ! বিরোধী দল ভুলে যাচ্ছে, যখন তারা সরকারে ছিল, তখন এই পুলিশরাই তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে এসেছে। ৩৩০০০ পুলিশ শহীদ হয়েছে দেশে, তাঁদের পাথর মারবেন ! শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা তাঁরা কিন্তু আমাদের রক্ষা করে চলেছেন। শতাধিক বছরের পুরোনো একটি দলের নেতা সবসময় ভারত নিয়ে জ্ঞান দেয়, আর এখন হিংসা রুখতে তাঁর মুখে কোনো কথা নেই;" এরপর মোদী সভামঞ্চ থেকেই 'শহিদো অমর রহো' স্লোগান তোলেন।
সিটিজেনস এমেন্ডমেন্ট আইন নিয়ে এরপর মোদী বলেন,"সিএএ নিয়ে কংগ্রেস ভুল বোঝাচ্ছে। ডিটেনশন ক্যাম্প কোথায় হয়েছে ? আইনটি ভাল করে না পড়ে  এত অশান্তি কেন ? এই আইন তো দেশবাসীর জন্যেই নয়.পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে যে সব সংখ্যালঘু মানুষ সেই সব দেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে আমাদের দেশে চলে আসছেন, এই আইন শুধুমাত্র তাঁদের জন্যে। কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি ভোট ব্যাংক ছাড়া আর কিছুই চেনে  না।
এদের সাথে যোগ দিয়েছে কিছু শহুরে নকশাল। শরণার্থী এবং অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে পার্থক্য আছে, সেটা বুঝতে হবে; যারা লুকিয়ে এদেশে প্রবেশ করেছে, যারা নিজেদের লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রাখে, তারা কিছুতেই শরণার্থী হতে পারে না; সিএএ আইন অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যে নয়, অধিকার প্রদানের জন্যে।" 
মোদী আজ বলেন, "মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, পাকিস্তানে থাকা হিন্দু ও শিখেরা যদি ভবিষ্যতে কোনোদিন ভাড়াটে ফিরে আসতে চান, তাঁরা স্বাগত। মনমোহন সিং সংসদে বলেছিলেন বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের আমাদের সাহায্য করা উচিত, আসামের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈ বারবার চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে চলে আসা মানুষদের আশ্রয় দেওয়া উচিত। কংগ্রেস নেতা গেহলটও একই কথা বলেছিলেন, আমরা সেটাই কার্যক্ষেত্রে করছি, আর এবার বিরোধীরাই রাতারাতি পাল্টে গেল ?"
মোদী এরপর সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গত চলে আসেন, তিনি বলেন, " দিদি সিদি   কলকাতা থেকে ইউএনও পৌঁছে গেলেন ? এই দিদিই সংসদে  বলেছিলেন অনুপ্রবেশকারীদের  রোখা উচিত ! স্পিকারের দিকে কাগজ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ! কেন আপনি বদলে গেলেন দিদি ? কেন আপনি এত ভয় পাচ্ছেন ? ভোট আসে, যায়, আপনার অসুবিধা আমরা সবাই বুঝি। বাংলার মানুষের ওপর আর ভরসা করতে পারছেন না ? আপনি কার বিরোধিতা করছেন, সেটা গোটা দেশ দেখছে।" এরপর কমিউনিস্টদের কটাক্ষ করে মোদী বলেন, "কমিউনিস্টরাও এককালে বলেছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার জন্যে, এখন দেখুন, ওদের প্রকৃত চেহারটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তার মানে, এতদিন ওরা ভোট ব্যাংকের রাজনীতির কারণেই এইসব কথা বলত।  যে সব মুখ্যমন্ত্রীর বলছেন, নিজেদের রাজ্যে সিটিজেনস এমেন্ডমেন্ট আইন লাগু করতে দেবেন না, তাঁরা কি এই কথা আদৌ বলতে পারেন ?  যাঁরা আইন জানেন তাঁদের একবার জিজ্ঞাসা করুন, নিজেদের রাজ্যের এডভোকেট জেনারেলদের জিজ্ঞাসা করুন, একথা বলা যায় না, কারন সংবিধানের শপথ গ্রহণ করেছেন আপনারা, জাতীয় পতাকার তলায় গিয়ে আপনারা দাঁড়ান।" এরপর বিভিন্ন দেশের সাথে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বলিষ্ঠ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদী। ফের একবার হিংসাত্মক আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে মোদী বলেন, "হিংসা ছড়াবেন না. দেশের সম্পত্তি নষ্ট করবেন না, সঠিকতা জানুন, বিরোধীদের টেপ রেকর্ডার না শুনে, আমার ট্র্যাক রেকর্ড খতিয়ে  দেখুন। দেশের সদ্ভাব রাখতে যতদূর যেতে হয় যাব, আমার পথ থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়া যাবে না; বিরোধীরা আমাকে যতই  ঘৃণা করুক না কেন, দেশবাসীর থেকে তার চেয়েও বেশি ভালবাসা পেয়েছি।"

Loading...

Amazon

https://www.amazon.in/Redmi-8A-Dual-Blue-Storage/dp/B07WPVLKPW/ref=sr_1_1?crid=23HR3ULVWSF0N&dchild=1&keywords=mobile+under+10000&qid=1597050765&sprefix=mobile%2Caps%2C895&sr=8-1

Pages